পাইথন শেখার কিছু উপকারী টিপস

লিখেছেন: ইজহারুল ইসলাম || Founder & CTO, টেকনিয়াস || তারিখঃ 15 Jan, 2022


১: বোঝার চেষ্টা করুন

মুখস্থ করার প্রবণতা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলুন। যা কিছু করছেন, সেটি ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করুন। নিজে চিন্তা করুন। বাস্তব জীবনের সাথে বিষয়গুলো মেলানোর চেষ্টা করুন। কারণ, বাস্তব জীবনের সমস্যাগুলোর সমাধান করার জন্য মূলত: প্রোগ্রামিং শেখা। 

২: প্রতিদিন কোড করুন

কোডিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল, নিয়মতান্ত্রিকতা রক্ষা করা। অর্থাৎ প্রত্যেক দিন কিছু না কিছু কোড করার চেষ্টা করা। এর দ্বারা আপনার অবচেতন মনে বিষয়গুলো গেথে যাবে। আমাদের শারীরিক গঠনের ক্ষেত্রে ব্যায়াম যেমন নিয়মিত করতে হয়, একইভাবে কোডিং এর ক্ষেত্রে আমাদের ব্রেনের মাসলগুলোকে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে পরিপক্ক ও পরিশীলিত করা। এজন্য কোডিং এর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূ্র্ণ বিষয় হল, দৈনন্দিন কিছু না কিছু কোড করার চেষ্টা করা। 

 

৩: ব্রেক নিন

অনেকেই নিয়মিত অনুশীলনের পরিরর্তে এক দিনেই অনেক কিছু শেখার চেষ্টা করেন। এ পদ্ধতি বাস্তবে ততটা ফলপ্রসূ নয়। যে কোন কিছু শেখার ক্ষেত্রে একাধারে শেখার চেয়ে সামান্য ব্রেক দিয়ে নিয়মিত শেখা বেশি উপকারী। এজন্য কোডিং এর ক্ষেত্রেও ১৫-২০ মিনিট এর ব্রেক নিয়ে অনুশীলন চালু রাখুন। একটু হাটাহাটি করুন। যে বিষয়ে প্র্যাকটিস করছে সেটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করুন। 

 

৪: অন্যদের সাথে আলোচনা 

জটিল কোন বিষয় সহজে হৃদয়ঙ্গম করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হল, অন্যদের সাথে আলোচনা করা। এজন্য অন্য যারা প্রোগ্রামিং শিখছে, তাদের সাথে আলোচনায় অংশ নেয়া বেশ উপকারী। বিভিন্ন টপিকে কথা হতে পারে। সহজে বিষয়গুলো উপস্থাপনের চেষ্টা করা। অথবা অন্যের বক্তব্য শুনে মন্তব্য করা। সবগুলোই উপকারী। এতে করে শেখার একঘেয়েমী যেমন কেটে যাবে, একই সাথে সহজেই জটিল বিষয়গুলো হৃদয়ঙ্গম করা সম্ভব হবে। 

৫: রিচ এডিটর ব্যবহার না করা 

কোডিং এর সুবিধার জন্য বর্তমানে অনেক রিচ এডিটর রয়েছে। য়েগুলোতে অটো সাজেশনের ব্যবস্থা থাকে। য়ে কোন কিছু লেখা শুরু করলে অটো সাজেশন দেয়। এধরণের রিচ এডিটরগুলো রেগুলার ডেভেলপমেন্টের জন্য বেশ উপকারী। কিন্তু শেখার ক্ষেত্রে বিষয়টি হিতে-বিপরীত হতে পারে। এজন্য একেবারে বিগিনারদের উচিৎ এধরণের টেক্সট এডিটর ব্যবহার না করে অটো সাজেশন দেয় না, এমন এনভারনমেন্টে কাজ করা। সম্ভব হলে সরাসরি খাতায় বা হোয়াইট-বোর্ডে কোডিং প্র্যাকটিস করা। 

৬: ডিবাগিং এবং ডিবাগিং

কোডিং এর বড় একটি অংশ হলো ডিবাগিং। কোড করতে গিয়ে নানা ভুল-ভ্রান্তি হওয়াটা খৃুবই স্বাভাবিক। পৃথিবীর কেউ-ই দাবী করতে পারবে না যে, সে সব-সময় নির্ভুল কোড লিখে। বরং যতো ভালো ডেভেলপারই হোক, কোডে বাগ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। একজন প্রোগ্রামারের ডেইলি রুটিনের বড় একটি অংশ থাকে ডিবাগিং। কোথায়, কী কারণে ভুল হলো, ভুলের সবচেয়ে ভালো সমাধান কী, এগুলো নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা। এজন্য একেবারে শুরু থেকেই ডিবাগিং এর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।